Chitkul – ছিটকুল

হিমাচলের শেষ গ্রাম ছিটকুল. 3450 মিটার বা 11320 ফুট উঁচুতে এই ছোট্ট গ্রামটি হিমালয়ের কোলে পাহাড়ঘেরা বাসপা নদীর তীরে অবস্থিতl প্রথমেই দেবো সাংলা থেকে ছিটকুল যাওয়ার বর্ণনাl সাংলা থেকে ছিটকুল খুব বেশি দূরত্ব নয়. কমবেশি 30 কিলোমিটার হবে. তাই গাড়িতে যেতে অনেকটা সময় লাগবে না. আবার খুব কম সময়ে যে লাগবে তাও নয় কেননা সাংলা থেকে ছিটকুল যাওয়ার রাস্তা খুব একটা ভালো নয়. মাঝে মাঝে পাথর মজবুরি তে ভর্তি রাস্তা দিয়ে যেতে হয় l এই গ্রামের বাসিন্দা সংখ্যা খুব বেশি হলে 600থেকে 650 মতো হবেl একদম নিরিবিলি নিশ্চুপ গ্রাম কিন্তু প্রকৃতি এখানে অকৃপণ l উজাড় করে দিয়েছে প্রকৃতি প্রেমিকদের কাছে তার অবর্ণনীয় সৌন্দর্য্যের ডালি l পাইনের জঙ্গল চিরে নিজের ছন্দে বয়ে চলেছে বাসপা নদী lআর তার দুই ধারের উর্বরা জমিকে করে তুলছে সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা l দূরে দেখা যায় নীল আকাশের গা ঘেঁষে নী – লা গিরি শৃঙ্গ l সেখান থেকেই জন্ম নিয়ে বয়ে আসছে শুভ্র শীতল বাসপা l

ছিটকুল পেরিয়ে আরও কিছুটা গেলে দেখতে পাওয়া যায় সেনাছাউনিl আর ওখানেই শেষ কেননা তারপর আর যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় নাl

আমরা সাংলার হোটেল থেকে সকাল দশটা নাগাদ বেরিয়ে পড়লাম ছিটকুলের উদ্দেশ্যেl ডান দিকে সেই বাসপা নদীকে সঙ্গী করে ছুটে চললাম সেই ভয়ঙ্কর সুন্দর পাহাড়ি চড়াই-উৎরাই পেরিয়েl রাস্তার ধারে ধারে আপেল গাছের বাগানl বাম দিকে উঁচু পর্বত শৃঙ্গের উপর সূর্যের আলো পড়ে ঝলমল করতে লাগলো এদিকে আকাশ আরো বেশি বেশি নীলl রৌদ্রকরোজ্জ্বল দিনে সব কিছু ঝলমল করছিলো l

কোথাও কোথাও দুইধারে পাইন গাছের জঙ্গল কোথাও আবার নুড়ি পাথরের ভরা উপত্যকাl কোথাও রাস্তা সুন্দর মসৃণ তো কোথাও আবার রাস্তা বড়ই দুর্গমl ডান দিকে সাংলা উপত্যকা l আর সেই উপত্যকা দিয়ে বয়ে চলেছে খরস্রোতা বাসপা নদীl কোথাও কোথাও নদী কোন ধারায় প্রবাহিত হচ্ছে তো আবার কোথাও কোথাও নদী বিস্তীর্ণ কলেবর ধারণ করেই প্রচুর জল বয়ে চলেছে হুড়মুড় করেl রাস্তায় অনেকগুলি ছোট ছোট জলপ্রপাত বা ঝোরা দেখতে পেলামl

শুভ্র শীতল জলরাশি সেই ঝোরা বা ছোটখাটো জলপ্রপাত দিয়ে সর্পিল গতিতে গড়িয়ে চলেছে l আর সেগুলি নদীতে গিয়ে মিশছেl আর এই ছোট্ট ছোট্ট জলধারা গুলিকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি হয়েছে সুন্দর ছোট ছোট ব্রিজl একটা জায়গায় দেখলাম রাস্তা অত্যন্ত খারাপ এবং তার চারদিকে পাহাড় ধসে পড়ে গিয়েছে আর নুড়িপাথর চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আর বিশাল নালার মতো সৃষ্টি হয়েছে সেখানে দিয়ে জল গড়িয়ে চলে যাচ্ছে বাসপা নদীর দিকেl ড্রাইভার ভাই বললে এখানে ক্লাউড ব্লাস্ট বা মেঘ ভাঙ্গা বৃষ্টি হয়েছিল যার কারণে এখানে এই অবস্থা সাংলার এক একটি ছোট্ট ছোট্ট গ্রাম পেরিয়ে আমরা ক্রমশ এগিয়ে যেতে লাগলামl তারপর অবশেষে সাংলার শেষ গ্রাম পঞ্চায়েত আধুনিক গ্রাম রাকছাম এর কাছে এসে পড়লাম l

বেশ বড়সড় একটি গোষ্ঠীবদ্ধ বসতি সাংলা উপত্যকায় গড়ে উঠেছেl রাস্তার উপর থেকে এই উপত্যকার গ্রামটিকে অত্যন্ত সুন্দর দেখাচ্ছিলl আমরা পাহাড়ের ঢাল বেয়ে পাহাড় কেটে তৈরি করা সংকীর্ণ ভয়ঙ্কর রাস্তা ধরে ক্রমশ এগিয়ে চলেছি আর ডানদিকে সেই গভীর বিস্তৃত উপত্যকাl চারদিকে কোথাও কোথাও গোষ্ঠীবদ্ধ বসতি কোথায় আবার বিক্ষিপ্ত জনবসতি পরিলক্ষিত হচ্ছিলl যত ছিটকুল এর দিকে এগিয়ে ততোই আপেল বাগান নিঃশেষ হয়ে আসছে সেভাবে আর চোখে পড়ছে না বরং দুই ধারে কেবল পাইন বিভিন্ন সরলবর্গীয় বৃক্ষlআখরোট গাছ মাঝে মাঝে ঝাঁকড়া মাথা তুলে দাঁড়িয়ে রয়েছেl

বিস্তৃত উপত্যকা জুড়ে বিভিন্ন ফসল যেমন ধান এবং আরেক ধরনের লাল রঙের ফসলে রংবেরঙের সেজে উঠেছে বাসপার দুই কুলl আর সেই অপরূপ সৌন্দর্য আমাদের মোহিত করে তুললl গাড়ি থেকে ছবি তোলার শেষ নেইl আর হবেই না কেন দুচোখ ভরে দেখি ওই যেন শেষ করতে পারছিনা আর এই অপরূপ সৌন্দর্যের খনিl তাই ওই অপূর্ব সুন্দর দেশগুলিকে ক্যামেরাবন্দি করে রাখার বাসনা সবার মনেইl একটা জায়গায় আমাদের গাড়ি থামিয়ে পুলিশ রা আইডেন্টি কার্ড চেক করলেনl তারপর স্কুলে যাওয়ার অনুমতি দিলেনl অবশ্য ড্রাইভার ভাই বললেন যে সব সময় চেক করে নাl

ছিটকুল যাওয়ার পথে ডানদিকের সমতল ও পাইনে ঢাকা উপত্যকায় গড়ে উঠেছে অনেক নেচার ক্যাম্পl মানুষ এই বাসবা নদীর কুলুকুলু শব্দকে সঙ্গী করে এই টেন্টের মধ্যে রাত কাটানোর অ্যাডভেঞ্চার নিয়ে থাকেl ইদানিং বহু নেচার ক্যাম্প তৈরি হয়েছেl যেহেতু আমরা সেপ্টেম্বর মাসে গিয়েছিলাম তাই চারদিকে বরফের ছড়াছড়ি ছিল না বরং চারদিকে ছড়িয়ে ছিল বিভিন্ন পাকা শস্য আর সুন্দর অপূর্ব সবুজ শোভাl

শীতকালে যখন গরম পড়ে এবং ছিটকুল যখন বড় পুকুরে ঠেকে যায় তখন ছিটকুল যাওয়ার রাস্তা বন্ধ থাকেl আবার বর্ষাকালে ছিটকুল যাওয়া বড়ই বিপদজনকl কেননা রাস্তায় প্রচুর বড় বড় নুড়ি পাথর ভর্তি এবং বামদিকের পাহাড় থেকে কখন যে পাথর নুড়ি,গোলাকার পাথর গড়িয়ে এসে পড়বে তার কোন ঠিক নেই l তবে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ছিটকুল যাওয়ার একদম উপযুক্ত সময়l এই সময় ছিটকুল এর সৌন্দর্য এক অন্য মাত্রা পায়l

শীতের কয়েক মাস যখন গোটা ছিটকুল বরফে ঢেকে যায় তখন তা কিন্নরের বিভিন্ন জায়গা থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকেl এই কয়েক মাস ছাড়া বাকি সারা বছরই পর্যটকদের ভিড় পরিলক্ষিত হয়l ছোট ছোট সুন্দর বাড়ি ঘর মন্দির দুর্গ মনাস্ট্রি সবকিছু আর অকৃপণ প্রকৃতির উজাড় করে দেওয়ার সৌন্দর্য তো আছেই যা আপনাকে এই গ্রামে একদিন থাকতে বাধ্য করবেl যাদের হাতে সময় থাকে তারা এক দুটা দিন এই স্বর্গে কাটিয়ে যায়l রাত্রি বেলাও মোহময় জায়গা হয়ে ওঠে এই ছিটকুল l পূর্ণিমার রাতে বাসপা নদীর কুলু কুলু শব্দকে সঙ্গী করে নেচার ক্যাম্পেও কাটাতে পারেন এক স্বর্গীয় রাতl থাকার হোটেল আছে তবে কম l বাঙালি খাবার আলু পোস্ত ডাল ও পাওয়া যায় l এক দিকে তুষারাবৃত পাহাড়, অন্যদিকে রূপসী বাসপা l স্বপ্নের মতো সুন্দর ছিটকুল চোখে ঘোর লাগিয়ে দেয় l বাড়তি পাওনা ছিটকুলের মানুষের অমায়িক ব্যবহার ও শিশুদের মিষ্টি হাসি l

শীতের দেশেও হাঁটতে হাঁটতে গরমে আমাদের ঘাম দিতে শুরু করলোl রাস্তার বাম দিকে বিশাল রুক্ষ পাহাড়l আর তার গা দিয়ে একটি ধূলিময় রাস্তা এঁকেবেঁকে চলে গিয়েছে ছিটকুলের একেবারে শেষের দিকেl আর ডানদিকে অদূরে বয়ে চলেছে সুন্দরী বাসপা নদীl আর তার বিস্তৃত উপত্যকা জুড়ে বিভিন্ন ফসলের চাষl কিছু কৃষক ফসল কাটছেl কোথাও সবুজ ক্ষেতে চরে বেড়াচ্ছে গবাদি পশু- গরু, ভেড়া ইত্যাদিl কোথাও কোথাও জমিতে ফসল কাটা হয়ে পড়ে আছে l তবে নদীর বামদিক টা বেশ রুক্ষ-শুষ্ক গাছপালা একেবারেই নেই বললেই চলে কিন্তু ডানদিকে পাইন গাছের ঘন জঙ্গল আর সারি সারি সবুজ পাহাড়l আর ডান দিকের সেই পাহাড় থেকে অসংখ্য ছোট ছোট নদীর শুভ্র জলধারা নেমে এসে মিশেছে বাসপা নদীতে l

আর সামনের দিকে উচ্চ হিমালয়ের পর্বত শৃঙ্গ, যার ওপরে বরফ জমে রয়েছে এবং সেই পর্বতচূড়াকে আর বরফকে আমাদের দৃষ্টি থেকে আড়াল করে দিচ্ছে মেঘের ভেলা l হাঁটতে হাঁটতে বারবার ধরে সেই পর্বত চূড়ার দিকে দেখছি কখন মেঘ সরে যাবে আর সেই শূভ্র বরফের হিমবাহ প্রতিভাত হবে আমাদের সম্মুখে l কিন্তু সেই মেঘরাজি সেই পর্বত শৃঙ্গ থেকে সরছেই নাl মাঝে মাঝে একটা পাহাড়ী জিপগাড়ি ধুলো উড়িয়ে চলে যাচ্ছিলl সেই গাড়ি গুলো যাচ্ছে দেখে আমরা ভাবলাম তাহলে আমাদের গাড়িও তো যেতে পারত কেন আমাদের খামোখা হাঁটা করাচ্ছেl হেঁটেই চলেছি কিন্তু সেই রাস্তা যেন শেষ হচ্ছে নাlড্রাইভার ভাইকে ফোন করলাম, বললাম যে গাড়ি নিয়ে আসতেl কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখি ড্রাইভার আমাদের বাকি সদস্যদের গাড়িতে চাপিয়ে এসে হাজির হলোl তারপর বাকি পথটা সেই গাড়িতে করেই আমরা গেলামl একটা সাইন বোর্ডে লেখা আছে ইন্ডিয়াজ ফার্স্ট লাইন অফ ডিফেন্স l আর সেই সাইনবোর্ডের সামনেই আছে একটি অস্থায়ী গেটl সেই গেটের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন দুইজন বিএসএফ জওয়ানl তারা হাত দেখিয়ে গাড়িটি কে থামিয়ে দিলেনl

পরে জানতে পারলাম যে এরপর গাড়ি এবং মানুষ কেউ ঢুকতে পারবে নাl স্থানীয় লোকেরা যেতে পারে lতাই সামনের দিকে যে সমস্ত ছোট ছোট বাড়ি বা সেনা ছাউনি যেগুলো ছিল সেদিকটা আমাদের অদেখাই থেকে গেলl যতদূর চোখ যায় ততদূর দেখা যাচ্ছিল কিন্তু আর অনুমতি না মেলায় আমরা যেতে পারলাম নাl আবার গাড়িতে করেই ফিরতে হবে অগত্যাl তাই আমরা ড্রাইভারকে বলে নিচের উপত্যকার দিকে নেমে গেলামl কেননা আমরা ঠিক করে নিলাম যেহেতু সামনের দিকে আর এগোতে পারব না তাই ডান দিকের এই উপত্যকায় ঘুরবো এবং বাসপা নদীর তীরে গিয়ে বসে কিছু ছবি তুলব, কিছু সময় কাটাবো আর সেই বাসপা নদীর সুশীতল জলের ছোঁয়া নেবl আমাদের কিছু সদস্য যাদের হাঁটতে একটু সমস্যা ছিল তারা সেখানেই গাড়ির উপর উঠে বসলেন বা আশেপাশে টুকটাক ঘোরাঘুরি করতে লাগলেন lকিন্তু আমরা একেবারে উপর থেকে ধীরে ধীরে নীচের উপত্যকায় নেমে এলামl

ছিটকুল এর একদম শেষ প্রান্তে গিয়েও আমরা যখন আর চেনা ছাউনির দিকে যেতে পারলাম না তখন উঁচু রাস্তা থেকে ধীরে ধীরে নেমে গেলাম বাসপা ভ্যালির দিকেl বাসপা ভ্যালিতে ছোট বড় পাথরের ছড়াছড়িl

তাই খুব সাবধানে নামতে হয়l বিভিন্ন আকৃতির এই মসৃণ পাথরের সারি পেছনে রাখতে রাখতে ক্রমশ এগিয়ে যেতে লাগলাম তীরে l দূর থেকে প্রবাহিণী বাসপার কল্লোল শোনা যাচ্ছিলl যত তার কাছাকাছি যেতে লাগলাম ততই সেই স্রোতের নিনাদ আরো বাড়তে লাগলোl সে নদী নয়, সেতো আমার প্রেম l এমন স্রোতস্বীনীর রূপ দেখিনিতো আগে l দূর হতে শুনেছিনু তার গান l তার পরশ পাওয়ার জন্য মন ব্যাকুল হয়ে উঠেছে l তার সে কি রূপ !সে কি লাবণ্য l

শুভ্র আলখাল্লা পরে চারদিকে তার ঘাগরা ছড়িয়ে দিয়ে ছুটে চলেছে কল্লোলিনী বাসপা l বাসপা পাহাড় কে জড়িয়ে সন্তর্পনে নেমে এসেছিলো সে l তাই বড়ো আদরের নাম তার বাসপা l সে উঠতে পড়তে তার সখীর ডাকে সাড়া দিয়ে প্রেমিকের সাথে মিলনের অদম্য উল্লাসে ছুটে চলেছে সম্মুখপানে l শ্যাওলা ধরা পাথরের অন্তরায় তার গতি অবরুদ্ধ করতে পারেনি l তাদেরকে মিষ্টি আঘাত হেনে দুই হাতে সরিয়ে নিজের পথ খুঁজে নিয়েছে সুন্দরী বাসপা l এক গুচ্ছ সাদা ফেনা তৈরী করে গা ভাসিয়ে কখনো বা মসৃন পাথরের গায়ে আলতো ছোঁয়া দিয়ে পাইনের বুক চিরে চলেছে সে l জলের বুদবুদ তৈরী হয় আর সাথেই সাথেই মৃত্যু মুখে পতিত হয়ে অনবরত সৃষ্টি করছে জন্ম মৃত্যুর খেলা l

ঝাঁ ঝাঁ শব্দের সুর লহরীতে মুখরিত নদী কুল l চারদিকে পর্বতমালার মাঝে লজ্জাবতী নদী যেন এঁকেবেঁকে কোমর দুলিয়ে কেশরাজি সর্পের ন্যায় বাঁকিয়ে চলেছে পায়ে ঘুঙুর পরে l তার সেই চলন অভিসারিনীর মতো, তার সেই কথা প্রিয়ম্বদার মতো l তরঙ্গিণীর তরঙ্গে নিস্তব্ধতাও হার মেনেছে কবেই l ওপাড়ে পাইন, দেবদারুর মেলা l আর এক সরু নদী বয়ে এসে মিশেছে বাসপার সাথে lএপারে শুধুই নুড়ি, আর রুক্ষ পাহাড় l কতকগুলো নেচার ক্যাম্প রয়েছে সারি সারি l আর লাল রঙের এক ধরণের ফসলের রঙিন আল্পনা lকিন্তু উপত্যকা সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা l বাসপা তার পরশ দিয়ে মাটিকে করেছে উর্বরা l আর তীরের মানুষজনকে করেছে সরল সহজ l আর এই তটিনী আমাকে প্রেমিক বানিয়ে দিয়েছে তার রূপে, তার সুশীতল ছোঁয়ায় l

সূর্য তখন মধ্য গগন থেকে ক্রমে পশ্চিমে যাত্রার জন্য উদ্দত হচ্ছে আর আমি তখন বাসপার প্রেমে মশগুল l রোদ ঝলমলে এমন এক দ্বিপ্রহরে তার সাথে দেখা l তাই এখনই যেতে মন চাইছে না তাকে ছেড়ে l শীতল সমীরণে শরীর মন জুড়িয়ে যেতে লাগলো l তার একদম কাছে, একদম পাশে বসে দু দন্ড প্রেমালাপ করতে ছিলাম l আর আর শুভ্র সুন্দর রূপে বার বার মোহিত হচ্ছিলাম l

ছুঁগো শাখাগো পাস থেকে জন্ম এই নদীর l আর মিলিত হয়েছে করছমের শতদ্রুর সাথে l আর এই প্রবাহ পথে ছড়িয়ে দিয়ে গেছে নানার ফসলের বীজ l নানান ফলের গাছ l এই নদীর এমন সুন্দর উপত্যকাকে বাসপা উপত্যকা বলে l এই উপত্যকা করছাম পর্যন্ত বিস্তৃত l

মনে পড়ে একবার কাশ্মীরের লিডার নদীর প্রেমে পড়েছিলাম আর এখন এই বাসপার প্রেমে l এমন পাহাড়ি কন্যা, এমন শীতল তার চাহনি আমি আর কোথাও পাইনি l তার সুর লহরীর মূর্ছনায় কখন যে আনমনা হয়ে পা দুটো ডুবিয়ে বসেছিলাম এক পাথরের ওপর বুঝতে পারিনি l তার জল অত্যন্ত শীতল l অবগাহন করা মুশকিল l পাথরে ধাক্কা লেগে চাদিকে বিচ্ছুরিত হয়ে কলোনিনাদ করতে করতে এগিয়ে চলেছে l তুষার শুভ্র জল এমন সৌন্দর্য্য রচনা করছে না স্বচক্ষে না দেখলে আন্দাজ করা দুরহ l গাছ থেকে গেছে পাখিদের আনাগোনা, তাদের কূজনে মুখরিত পাইন বন l আর ওপাশের সবুজ কচি ঘাসে মন দিয়েছে গাভীদের দল l মেষ চরছে পালে পালে l

বাসপার প্রতিটা লহরে লহরে লহরিত হতে লাগলো প্রাণের স্পন্দন l কতক্ষন যে এভাবে বসে ছিলাম মনে নেই l ড্রাইভার ভাই হাত নেড়ে ডাকে শুধু ইশারায় l ভ্রূক্ষেপ নেই সেদিকে l এমন নান্দনিক সাহচর্য ছেড়ে কেমনে যায় বলো তো l কি করে বিদায় জানায় সেই দুরন্ত প্রেয়সীকে l কিন্তু হাই সময় বড়ো বালাই l যেতেই হবে ছেড়ে l ঘন্টা খানেক নদীর সাথে সখ্যতা করে অগুনতি আলোকচিত্র মুঠো ফোনে বন্দি করে তার রূপ স্মৃতি পটে এঁকে হাঁটা দিলাম গাড়ির দিকে l গাড়িতে উঠে চললাম ছিটকুল জনবসতির দিকে l উদরে লাগে ক্ষুধার বাড়ি কিন্তু কে কার কথা শুনে l হৃদয়জুড়ে প্রেমের ক্ষুধা, সেই নদীর প্রেম, সেই উপত্যকার প্রেম l চক্ষু জুড়ে শুধুই তৃস্না সেই শীতল জলের l মন পড়ে রইলো বাসপার বাম পাশে l শুধু একটাই প্রতিশ্রুতি দিলাম আবার আসবো, আবার রুক্ষ পাহাড় ডিঙিয়ে এসে দাঁড়াবো তোমার সম্মুকে l 

Post Credit: Mir Hakimul Ali

Related Place


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *