Valley Of Flowers (বাংলা)

এই ট্রেক এমন এক ট্রেক যেখানে লাগেনা কোন গাইড, লাগে না পোর্টার লাগেনা বিশেষ ড্রেস বা টেন্টের ব্যবস্থা।

শুধু প্ল্যান করে ট্রেনের টিকিটটা সময়মতো কেটে ফেললেই হল। গ্রুপ করারও দরকার নেই। একাই বা দু জনেও সহজেই যেতে পারেন। এই স্থানে যাবার আদর্শ সময় আগস্টের শুরু থেকে সেপ্টেম্বরের শেষ। এই সময়ই সবচেয়ে বেশি ফুল ফুটে থাকে।

কীভাবে যাবেন…

ট্রেনে হরিদ্বার। সেখানে একরাত থাকুন। হোটেলের সাথে কথা বলে শেয়ার গাড়ি বা বাসে বদ্রিনারায়নের ২৫ কিমি আগে গোবিন্দঘাট পর্যন্ত যান। গাড়ি না পেলে যোশিমঠ যাবার গাড়ি অবশ্যই পাবেন। সেখান থেকে গোবিন্দঘাটের গাড়ি পাবেনই। গোবিন্দঘাটে অনেক হোটেল যেকোনো একটা বেছে নিন ৮০০ থেকে ১০০০ দাম। সস্তা পেতে হলে সেখানকার গুরুদোয়ারায় চলে যান। ২০০ টাকায় ঘর পাবেন, খাওয়া ফ্রী। হোটেলে থাকলেও গুরুদোয়ারায় খেয়ে নিতে পারেন। তাদের যত্ন ও খাবারের স্বাদ মন ভরাবে।

পরদিন সকাল সকাল উঠে ঘোড়ার পিঠে লাগেজ তুলে নিজেরা শেয়ার গাড়িতে চার কিমি আসুন পুলনা পর্যন্ত। এরপর হাঁটা শুরু। ১১ কিমি হাঁটবেন। রাস্তা খাড়াই না, টুকটুক করে হেঁটে বিকেলের দিকে ঘাংরিয়া আসুন। সেখানে তিন রাতের জন্য হোটেল নিন।

পরদিন ঘাংরিয়া থেকে আধার কার্ডের ফটোকপি আর ছবি দিয়ে পারমিশান করিয়ে নিয়ে হাঁটা শুরু করুন ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ারের জন্য। ছাতা রেনকোট ক্যামেরা রাখার পলিথিন মাস্ট। সারা রাস্তা বৃষ্টি পেতে পারেন। জুতো ভিজে থাকবে। শুকনোর জন্য হেয়ার ড্রায়ার নিতে পারেন। হোটেলে জামা জুতো শুকোনোর কাজে লাগাবেন। আর সাথে সারাদিনের খাবার নেবেন। ৫ কিলোমিটার রাস্তা। রাস্তা বলতে শুধুই পাথুরে ধাপ। সাবধানে হাঁটবেন, হোঁচট খাবার ভয়। কিছুটা যাবার পর একটা ঝর্ণা, আর একটা পাহাড়ি নদী। বর্ষায় তাদের রূপ আর গর্জন দেখার মতো। একটা ছোট্ট পুল। তারপরেই ফুলের দল তৈরি আপনাকে স্বাগত জানাতে। দুচোখ ভরে দেখবেন আর হাঁটবেন। চার কিলোমিটার যাওয়ার পর পাবেন স্বর্গের নন্দন কানন, ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার। আহা কতো ফুল, কি অপূর্ব। গায়ের ওপর ঢলে পড়ছে ফুলের দল, হাওয়ায় মাথা দোলাচ্ছে, সারা মন জুড়ে এক অদ্ভুত ভালোলাগা, মন আনন্দে আত্মহারা। দুচোখ ভরে দেখুন অপূর্ব সেই উপত্যকা জুড়ে ফুলের মেলা, দেখুন মেঘের খেলা। মন ভরবে আনন্দে। কয়েক ঘণ্টা কাটিয়ে ফিরতে শুরু করুন।

ঘাংরিয়ার হোটেলে সেই রাত কাটিয়ে পরদিন বেরিয়ে পড়ুন হেমকুন্ড সাহিবের উদ্দেশ্যে। এই রাস্তা খাড়াই বেশি, কিন্তু চওড়া রাস্তা। এইপথেও ফুলের সমারোহ। নানান ভ্যারাইটী ফুল পাবেন এখানে। ওপর থেকে নিচের উপত্যকায় মেঘের দল দেখতে পাবেন। মোহিত হয়ে যাবেন দৃশ্য দেখে। যত ওপরে উঠবেন ফুল বাড়বে। শেষ এক কিলোমিটারে পাবেন বহু আকাঙ্ক্ষিত উত্তরাখন্ডের দুই বিখ্যাত ফুল ব্লু পপি, আর ব্রহ্মকমল। মন ভরে যাবে দেখে। তারপর গুরুদোয়ারায় ঢুকবেন। পাবেন আতিথেয়তা ভরা উষ্ণ অভ্যর্থনা। গরম মালাই চা, আর সুগন্ধি ঘিয়ের খিচুড়ি পরিবেশন করছেন ভক্তরা। যত খুশি খান। শরীর একদম চাঙ্গা হয়ে যাবে।

কিছুটা সময় কাটিয়ে আবার ফেরার রাস্তা ধরুন ঘাংরিয়ায়। সেখানে রাত কাটিয়ে পরদিন আবার হেঁটে ফেরা গোবিন্দঘাট।

মনে রাখবেন, কোন ফুল তুলবেন না, গাছ নষ্ট করবেন না, পলিথিন প্লাস্টিক বা নোংরা ফেলবেন না, গুরুদোয়ারার পবিত্রতা রক্ষা করবেন।

ঘুরে আসুন, খুব সহজে ট্রেকিং হবে, আর কদিনের নির্মল বাতাস, ফুলের দল, মেঘের পাল, অপরূপ প্রকৃতি দেবে অনেকটা অক্সিজেন, বেঁচে থাকার রসদ।

ছবি গুলি ৫ ও ৬ আগস্ট ২০১৮ সালে তোলা। (অনেক ছবি হয়ে গেল, কিন্তু কাকে ছেড়ে কাকে দিই? বাকি রইলো আরও অনেক)

Original Post created by: Partha Chakraborty

Related Place


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *